বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি সমূহ (Most Important Straits)
আসসালামু আলাইকুম। আজকে আপনাদের সামনে হাজির হলাম গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু প্রণালি নিয়ে। চাকরির পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রায়শই প্রণালি নিয়ে প্রশ্ন আসে। তো চলুন দেখে নেওয়া যাক প্রণালি কী ও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রণালি। এই পোস্টে একটু বিস্তারিত আলোচনা করেছি, আপনারা যদি এক নজরে প্রণালিগুলো কোণ সাগরকে যুক্ত করে ও কোণ ভূখণ্ডকে পৃথক করে তা টেবিল আকারে দেখতে চান তাহলে এই পোস্ট দেখুন।
প্রণালি (Strait) কি? প্রণালি হলো দুই বৃহৎ জলভাগের মধ্যবর্তী সংযোগরক্ষাকারী সংকীর্ণ জলভাগ। সহজভাবে আমরা বলতে পারি প্রণালি দুটি সাগর, উপসাগর বা মহাসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এবং দুটি ভূখণ্ডকে পৃথক করে। প্রণালির বৈশিষ্ট্য হিসেবে বলা যায়, সাধারণত এগুলো সংকীর্ণ, গভীর ও খরস্রোতা হয়।গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি সমূহ
বিশ্বে ২০০ এর ও বেশি আন্তর্জাতিক প্রণালি আছে। কিন্তু আমাদের পক্ষে এতগুলো প্রণালি মনে রাখা সম্ভব নয়, এবং প্রয়োজনও নেই। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়টি প্রণালি জানাই যথেষ্ট। একে একে আমি নিচে এই প্রাণালি গুলো তুলে ধরলাম।বেরিং প্রণালি (Bering Strait)
এশিয়ার রাশিয়ার অংশ ও উত্তর আমেরিকার আলাস্কাকে পৃথক করেছে বেরিং প্রণালি। প্রণালিটি উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের বেরিং সাগর ও উত্তর মহাসাগরের চুক্চি সাগরকে সঙ্গে যুক্ত করেছে। ১৬৪৮ সালে রুশ অভিযানকারী সেমিয়োন ইভানোভিচ দেজনিয়ভ বেরিং প্রণালি আবিষ্কার করেন।তাতার প্রণালি (Tatar Strait / Strait of Tartary)
তাতার প্রণালি হলো রাশিয়া এবং সাখালিন দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত একটি সরু জলপথ, যা জাপান সাগরকে ওখটস্ক সাগরের সাথে সংযুক্ত করে। এটি প্রায় ৬৩২ কিলোমিটার (৩৯৩ মাইল) দীর্ঘ এবং এর প্রস্থ ৪.৫ থেকে ৩৯৩ মাইল (৭ থেকে ৩৪২ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত। একে টার্টারি প্রাণালিও বলা হয় কিছু কিছু জায়গায়। তাতার প্রণালি বিশ্বের ২য় দীর্ঘতম প্রণালি হিসেবেও পরিচিত।উল্লেখ্য, সাখালিন দ্বীপপুঞ্জ হলো রাশিয়া ও জাপানের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ দ্বীপ/অঞ্চল। এখানে রাশিয়ার নৌঘাঁটি আছে। রাশিয়া ও চীনের সীমান্ত তৈরিকারী আমুর নদী (চায়নিজ নাম : Hei Long Jiang/Black Dragon River) এই প্রণালিতে এসে যুক্ত হয়েছে।
কোরিয়া প্রণালি (Korea Strait)
কোরিয়া প্রণালি হলো দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে অবস্থিত সংকীর্ণ সমুদ্র ভাগ। প্রণালিটি পীত সাগর ও বিশেষ করে পূর্ব চীন সাগরের সাথে জাপান সাগরকে যুক্ত করেছে। এই প্রণালিটির মাঝে আবার সুশিমা (Tsushima) দ্বীপ আছে যা প্রণালিটি দুটি চ্যানেল, পশ্চিম চ্যানেল ও সুশিমা প্রণালি (তথা পূর্ব চ্যানেল) -এ ভাগ করে।ফরমোজা/তাইওয়ান প্রণালি (Taiwan Strait)
ফরমোজা প্রণালি, যা এখন তাইওয়ান প্রণালি নামে পরিচিত। এটি তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করে এবং দক্ষিণ চীন সাগরকে পূর্ব চীন সাগরের সাথে সংযুক্ত করে, উল্লেখ্য, বেশ কিছু জায়গায় দেখবেন দক্ষিণ চীন সাগরের বদলে টনকিন উপসাগরের কথা বলা হয়েছে। পর্তুগিজ নাবিকরা ১৬শ শতকে এটির খোঁজ পায় এবং এর নাম 'ফরমোজা' (ফরমোজা/ফরমোসা → সুন্দর) রেখেছিল।লুজন প্রণালি (Luzon Strait)
লুজন প্রণালি হলো তাইওয়ান এবং ফিলিপাইনের লুজন দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি। এটি পশ্চিমের দক্ষিণ চীন সাগরকে পূর্বের ফিলিপাইন সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে। এই প্রণালিটি প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার প্রশস্ত এবং এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে অবস্থিত একটি কৌশলগত জলপথ।মালাক্কা প্রণালি (Strait of Malacca)
মালাক্কা প্রণালি হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি সংকীর্ণ জলপথ, যা মালয়েশিয়ার মালয় উপদ্বীপ এবং ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত। এটি ভারত মহাসাগরের আন্দামান সাগরকে প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ চীন সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব বাণিজ্য নৌপথ। এটি প্রায় ৮০০ কিমি দীর্ঘ (কোনো কোনো জায়গায় ৯৩৭ কিমি উল্লেখ আছে)। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রণালি হিসেবে এটিকে বিবেচনা করা হয়। ১৪০০ থেকে ১৫১১ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে দ্বীপমালা উপর শাসিত মালাক্কা সালতানাতের নামে এর নামকরণ করা হয়। জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠান UNCTAD এর রিভিউ অফ মেরিটাইম ট্রান্সপোর্ট এর মতে পূর্ব এশিয়ার ৮০% তেল এই পথে পরিবহন করা হয়, এবং বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (২৫-৪০% অন্যান্য জায়গায় উল্লেখ) সমুদ্র বাণিজ্য এই পথে সম্পন্ন হয়।সুন্দা প্রণালি (Sunda Strait)
ইন্দোনেশিয়া জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপকে বিভক্তকারী প্রণালিটির না সুন্দা প্রণালি। সুন্দা প্রণালি জাভা সাগরকে ভারত মহাসাগরের সাথে যুক্ত করেছে। এটিও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ। ১৮৮৩ সালের ঐতিহাসিক ‘ক্রাকাতোয়া’ (Krakatoa) আগ্নেয় দ্বীপের অগ্ন্যুৎপাত এই প্রণালিতেই হয়েছিল। (প্রায় ৩০০০ মাইল পর্যন্ত এর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়) , যার হতে সৃষ্ট সুনামিতে ৩৬০০ মানুষ মারা যায়।আনাক ক্রাকাতোয়া (Anak Krakatau): ১৯২৭ সালে মূল ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির ধ্বংসাবশেষ থেকে 'আনাক ক্রাকাতোয়া' বা "ক্রাকাতোয়ার শিশু" নামে একটি নতুন আগ্নেয়গিরি দ্বীপের সৃষ্টি হয়। আনাক ক্রাকাতোয়া এখনো অত্যন্ত সক্রিয় এবং ২০১৮ সালের একটি বড়ো অগ্ন্যুৎপাত ও ধসের ফলে সেখানে সুনামি হয়েছিল।
পক প্রণালি (Palk Strait)
ভারতীয় রাজ্য তামিলনাড়ু ও দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী একটি সামুদ্রিক প্রণালি। এটি বঙ্গোপসাগর ও মান্নার উপসাগরকে একসঙ্গে যুক্ত করেছে। বেশ কয়েকটি নদী এই প্রণালিতে পতিত হয়েছে; এদের মধ্যে তামিলনাড়ুর ভাইগাই নদী উল্লেখযোগ্য। ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির গভর্নর (১৭৫৫-১৭৬৩) রবার্ট পকের নামে এই প্রণালির নামকরণ করা হয়েছে।হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz)
ইরান থেকে সংযুক্ত আরব ও ওমানকে পৃথক করা গুরুত্বপূর্ণ চোক-পয়েন্টটির নাম হরমুজ প্রণালি। হরমুজ প্রণালি পারস্য সাগরকে ওমান উপসাগরের সাথে যুক্ত করেছে। মাত্র ৩৪ কিমি দীর্ঘ এই প্রণালিটি ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানির প্রধান রুট। ধারণা করা হয় বিশ্বের মোট ২০% তেল পরিবহন এই পথে হয়।বাব এল-মান্দেব (Bab-el-Mandeb)
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর (ভারত মহাসাগরের) -কে যুক্ত করা এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চোকপয়েন্ট। এটি এশিয়ার ইয়েমেন ও আফ্রিকার জিবুতি/ইরিত্রিয়া কে পৃথক করেছে। বাব এল-মান্দেব আরবি এই নামের অর্থ দাঁড়ায় বাংলায় "কান্নার দুয়ার" বা 'দুর্দশার দুয়ার', ইংরেজিতে 'Gate of Tears/Grief', কারণ এটি ঐতিহাসিকভাবে বিপজ্জনক নৌপথ। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০-১২% এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। এই নৌপথ সুয়েজ খালের সাথে যুক্ত।কের্চ প্রণালি (Kerch Strait)
রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপ ও রাশিয়াকে পৃথক করেছে কের্চ প্রণালি, যুক্ত করেছে আজভ সাগরের সাথে কৃষ্ণ সাগরকে। আজভ সাগরে প্রবেশের একমাত্র পথ এই প্রণালি, যার উপর দিয়ে ২০১৮ সালে রাশিয়া প্রায় ১৯ কিমি দীর্ঘ ক্রিমিয়ান (Crimean) ব্রিজ নির্মাণ করে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের মাধ্যমে রাশিয়া জি-৮ গ্রুপ হতে বহিষ্কৃত হয়।দার্দানেলিস প্রণালি (Dardanelles Strait)
ইউরোপীয় তুরস্ককে (গ্যালিপোলি উপদ্বীপ) এশীয় তুরস্ক থেকে আলাদা করেছে এবং এজিয়ান সাগরকে মারমারা সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে দার্দানেলিস প্রণালি। প্রাচীনকালে এটি হেলিস্পন্ট (Hellespont) নামে পরিচিত ছিল।প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রশক্তি (ব্রিটিশ ও ফরাসি বাহিনী) এই প্রণালিটি দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়, যা ইতিহাসে 'গ্যালিপোলি অভিযান' বা 'দার্দানেলেস অভিযান' নামে পরিচিত।
মন্ট্রেক্স কনভেনশন (১৯৩৬): বর্তমানে এই প্রণালির মধ্য দিয়ে নৌযান চলাচল ১৯৩৬ সালের মন্ট্রেক্স কনভেনশন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, যা তুরস্ককে প্রণালিটির ওপর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রদান করে।
২০২২ সালে এই প্রণালির ওপর ১৯১৫ চানাক্কালে সেতু (1915 Çanakkale Bridge) উদ্বোধন করা হয়, যা বর্তমানে বিশ্বের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু।
বসফরাস প্রণালি (Bosphorus Strait)
বসফরাস প্রণালি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি, যা কৃষ্ণ সাগর ও মারমারা সাগরকে যুক্ত করেছে। এটি এশিয়া (আনাতোলিয়া) ও ইউরোপীয় তুরস্ককে পৃথক করে মহাদেশীয় সীমানা তৈরি করে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের একটি ব্যস্ততম কৌশলগত রুট। বসফরাস সেতুর (Bogazici Bridge) মতো বেশ কয়েকটি ঝুলন্ত সেতু এবং ফেরি ব্যবস্থা এর ইউরোপীয় ও এশীয় অংশকে সংযুক্ত করে। এই প্রণালি ইস্তাম্বুল প্রণালি নামেও পরিচিত।মেসিনা প্রণালি (Strait of Messina)
ইতালির মূল ভূখণ্ড থেকে সিসিলি দ্বীপকে পৃথক করেছে মেসিনা প্রণালি। এটি ভূমধ্যসাগরের অন্তর্গত টিরেনিয়ান সাগর এবং আয়োনিয়ান সাগরকে সংযুক্ত করেছে। এই প্রণালিটি অত্যন্ত খরস্রোতা এবং এখানে প্রবল ঘূর্ণিজলের (Whirlpool) সৃষ্টি হয়। প্রাচীন গ্রিক পুরাণে উল্লিখিত বিখ্যাত দুই সামুদ্রিক দানব 'স্কাইলা' এবং 'ক্যারিবডিস' -এর মিথ এই প্রণালির বিপজ্জনক স্রোত থেকেই উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়।সিসিলি প্রণালি (Strait of Sicily)
ইতালির সিসিলি দ্বীপ এবং উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়াকে পৃথক করেছে সিসিলি প্রণালি। পূর্ব ও পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এই প্রণালি। সিসিলিয়ান চ্যানেল, প্যান্টেলেরিয়া চ্যানেল, নামেও পরিচিত এই প্রণালি। ফ্লোরিডা প্রণালি (Strait of Florida)
ফ্লোরিডা প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপদ্বীপকে কিউবা এবং বাহামাস থেকে আলাদা করেছে। এটি মেক্সিকো উপসাগরকে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে যুক্ত করেছে। এই প্রণালি দিয়ে উষ্ণ স্রোত 'ফ্লোরিডা কারেন্ট' (যা পরবর্তীতে গালফ স্ট্রিম বা উপসাগরীয় স্রোত তৈরি করে) প্রবাহিত হয়। ঐতিহাসিকভাবে এই পথটি স্প্যানিশ গুপ্তধনবাহী জাহাজ এবং ক্যারিবিয়ান জলদস্যুদের আনাগোনার জন্য বেশ বিখ্যাত একটি এলাকা।জিব্রাল্টার প্রণালি (Strait of Gibraltar)
আফ্রিকার মরক্কো ও ইউরোপের স্পেনকে পৃথক করেছে জিব্রাল্টার প্রণালি, যুক্ত করেছে ভূমধ্যসাগরের সাথে আটলান্টিক মহাসাগরকে। ভূমধ্যসাগরে প্রবেশের একমাত্র প্রাকৃতিক পথ হওয়ায় একে ঐতিহাসিকভাবে "ভূমধ্যসাগরের চাবি" বলা হয়।ডোভার প্রণালি (Strait of Dover)
ইংলিশ চ্যানেলের সংকীর্ণতম অংশ, ইংল্যান্ডকে ফ্রান্স থেকে আলাদা করে এবং উত্তর সাগরের সাথে আটলান্টিক মহাসাগরের সংযোগ ঘটায়। এই প্রণালির দুধারে বিখ্যাত সাদা চক পাথর বা চুনাপাথরের পাহাড় (White Cliffs) দেখা যায়, যা প্রমাণ করে একসময় ব্রিটেন ইউরোপের সাথে যুক্ত ছিল। ডেনমার্ক প্রণালি (Denmark Strait)
ইউরোপের আইসল্যান্ড এবং উত্তর আমেরিকার গ্রিনল্যান্ডকে পৃথক করেছে ডেনমার্ক প্রণালি। এটি উত্তর মহাসাগরের গ্রিনল্যান্ড সাগরকে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে যুক্ত করেছে। এই প্রণালিটির একটি চমৎকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য হলো, এর নিচ দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ডুবন্ত জলপ্রপাত প্রবাহিত হয়, যা 'ডেনমার্ক স্ট্রেইট ক্যাটারাক্ট' (Denmark Strait cataract) নামে পরিচিত। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১ সালে এখানে বিখ্যাত নৌযুদ্ধ 'ব্যাটল অফ ডেনমার্ক স্ট্রেইট' সংঘটিত হয়েছিল। ডেভিস প্রণালি (Davis Strait)
ডেভিস প্রণালি কানাডার ব্যাফিন দ্বীপ এবং গ্রিনল্যান্ডকে আলাদা করেছে। এটি উত্তরে ব্যাফিন উপসাগরকে দক্ষিণে আটলান্টিক মহাসাগরের ল্যাব্রাডর সাগরের সাথে যুক্ত করেছে। ১৫৮০-এর দশকে এশিয়া যাওয়ার জন্য উত্তর-পশ্চিম পথ খোঁজার উদ্দেশ্যে আগত ইংরেজ অভিযাত্রী জন ডেভিসের নামানুসারে এই প্রণালির নামকরণ করা হয়। এটি আর্কটিক অঞ্চলের অন্যতম বরফাবৃত ও বিপজ্জনক একটি নৌপথ। হাডসন প্রণালি (Hudson Strait)
হাডসন প্রণালি কানাডার মূল ভূখণ্ডের কুইবেক প্রদেশ এবং ব্যাফিন দ্বীপকে পৃথক করেছে। এটি হাডসন উপসাগরকে আটলান্টিক মহাসাগরের ল্যাব্রাডর সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে। ১৬১০ সালে বিখ্যাত ইংরেজ নাবিক হেনরি হাডসন তার 'ডিসকভারি' নামক জাহাজে করে এটি আবিষ্কার করেন। ঐতিহাসিকভাবে উত্তর আমেরিকার বিখ্যাত 'হাডসন'স বে কোম্পানি'র বাণিজ্যের জন্য এই নৌপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিগুলো থেকে প্রায়শই চাকরির পরীক্ষায় ও ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন হয়ে থাকে, এর বাহিরে মোটামুটি গুরুত্বপূর্ণ ২-১টা প্রণালি (যেমন কুক প্রণালি) বাদ পড়েছে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল যেমন ইংলিশ চ্যানেল, মোজাম্বিক চ্যানেল বাদ পড়েছে। এসব প্রণালি নিয়ে লিখতে গেলে পোস্ট অনেক বিশাল হয়ে যাবে, এবং আপনারাও আর আলসেমি করে পুরোটা পড়বেন না, তাই অতিগুরুত্বপূর্ণ২১টি প্রণালি নিয়েই আজকের পোস্টের ইতি টানলাম। প্রণালি থেকে সাধারণত প্রশ্নের বিষয়বস্তু থাকে, "কোন কোন সাগরকে যুক্ত করেছে? কোন কোন দেশকে বিভক্ত করেছে? কোন কোন মহাদেশকে বিভক্ত করেছে?" ইত্যাদি। এছাড়াও বাণিজ্যিক গুরুত্ব, দৈর্ঘ্যও প্রশ্নে এসে থাকে (রেয়ার)। তাই নিচে আমি একনজরে দেখার জন্য একটি নোট টেবিল আকারে সংযুক্ত করে দিচ্ছি, আপনারা ডাউনলোড করে রাখতে পারেন।
গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি, হরমুজ প্রণালিবিসিএস প্রণালি, download pronali list table, প্রণালির টেবিল ডাউনলোডচাকরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি, most important Straits for government jobs, গুরুত্বপূর্ণ ২১টি প্রণালি